প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার জাতীয় সংসদে বলেছেন, বর্তমান সরকার বিদেশে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই মামলাগুলোর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত।
অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না। মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আদালত ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করেছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জনগণের অর্থ ফেরত এনে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

