মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল পারমাণবিক বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ মোতায়েন করেছে। গত মঙ্গলবার ভোরে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে রণতরিটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এর চূড়ান্ত গন্তব্য গোপন রাখা হলেও, সূত্রগুলো জানিয়েছে এটি ইরান উপকূলে মোতায়েন করা মার্কিন নৌবহরে যোগ দিচ্ছে।
রণতরিটি বন্দর ছাড়ার সময় উপস্থিত পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা দেখা যায়। সাধারণত এই ধরনের মোতায়েন ছয় মাসের জন্য হলেও, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা আট মাস বা তার বেশি দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেপুটি ফ্লিট ফোর্সেস কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জন গাম্বলটন নাবিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা জানি এই মোতায়েনের অনিশ্চয়তা আপনাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করেছে… তবে একে অপরের দিকে খেয়াল রাখবেন।”
ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-১০-এর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যালেক্সিস ওয়াকার জানান, বিশ্বের যেখানেই প্রয়োজন হবে, তারা সেখানেই যাবেন। তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ক্যাপ্টেন রবার্ট বিবেউ এক অগ্নিনির্বাপক কর্মীর উদাহরণ টেনে বলেন, “দমকল কর্মীরা জানে না কাল কোথায় আগুন লাগবে, কিন্তু তারা প্রস্তুত এবং সমস্যা সমাধানে সক্ষম।”
বর্তমানে এই অঞ্চলে অবস্থানরত ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ রণতরিটি তার মোতায়েনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১১ মাসে নিয়ে যেতে পারে, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘতম অবস্থানের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ফোর্ড টানা ২৮০ দিন সমুদ্রে অবস্থান করছে।
‘বুশ’ রণতরির এই যাত্রায় তার সাথে থাকছে অত্যাধুনিক স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন ‘জলি রজার্স’ ও ‘রামপেজার্স’সহ বেশ কিছু ধ্বংসাত্মক যুদ্ধজাহাজ। পেন্টাগন এই পুরো অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানে চলমান বিমান হামলাগুলোতে সরাসরি সহায়তা প্রদান করা। সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই নতুন অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

