সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্পের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন একটি আধা সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রকল্পের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহের উপায় খুঁজছে। আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড একটি ভালো উদ্যোগ হলেও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী জুন পর্যন্ত এর জন্য ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরবর্তী অর্থবছরে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইলট প্রকল্পে ৩৭,৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা কঠিন হতে পারে। তাই রাজস্ব ফাঁকি চিহ্নিত করে সেখান থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা উচিত।

