বাংলাদেশে চা উৎপাদন বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে দেশটি। ২০২৫ সালে দেশে ৯৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ মিলিয়ন কেজি বেশি। তবে, এই উৎপাদন দেশের বিশাল চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।
দেশের ১৭১টি চা বাগান প্রতিদিন ১২-১৩ কোটি কাপ চায়ের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় নিলামে চা পাতার দাম বেড়েই চলেছে। পাটোয়ারি টি এজেন্সির মালিক মো. রাহেল পাটোয়ারি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত চায়ের মূল্য উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে বাজারে দাম বেড়েছে।
চা বাগান মালিকরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও নজরদারির অভাবের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন। বিশেষায়িত চা উৎপাদনে জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রামের সুপার শপগুলোতে চীন, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা বিশেষায়িত চা পাওয়া যায়, যা কেজি প্রতি হাজার টাকা থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “নরমাল ব্লাকটি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা যাচ্ছে না। কোয়ালিটি পূর্ণ চা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করলে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব।”
বর্তমানে দেশে উৎপাদিত চা পাতার মাত্র ২ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। উৎপাদন খরচের কারণে শ্রীলঙ্কা, ভারত বা কেনিয়ার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বাংলাদেশ।

